সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধা
সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধা

দেশের সকল নাগরিকের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধা

সর্বজনীন টেনশন বলতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের মধ্যে যারা সরকারি চাকরি করেন অথবা বেসরকারি চাকরি করেন তারা সবাই কিছু না কিছু পেনশন পেয়ে থাকে। কিন্তু যারা চাকরি করেন না তারা তো আর পেনশনের সুবিধা পান না। অর্থাৎ চাকরিজীবীদের বাহিরে যে সকল জনসাধারণ রয়েছে যারা বেকার এবং কোন সরকারি চাকরি করেন না তাদের জন্য এই সর্বজনীন পেনশন স্কিম ব্যবস্থা।

বাংলাদেশের সর্বজনীন পেনশন সুবিধা চালু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ই আগস্ট বৃহস্পতিবার। এছাড়া সর্বজনীন পেনশনের রয়েছে একাধিক সুবিধা। যেমন – সর্বজনীন পেনশনার ব্যক্তি আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। কোন সর্বজনীন পেনশনার দশ বছর চাঁদা দেবার আগেই মারা গেলে তার জমাকৃত অর্থ মুনাফা সহ তাকে ফেরত দেওয়া হবে। চলুন তাহলে নিম্নে থেকে সর্বজনীন পেনশন ২০২৩ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

আজকে সর্বজনীন স্কিম সম্পর্কে যা যা জানবেন

  • ১। সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করবেন যেভাবে?
  • ২। অনলাইনে সর্বজনীন পেনশন আবেদন করার নিয়ম।
  • ৩। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে পেনশনার রেজিস্ট্রেশন, login, payment এবং সর্বজনীন পেনশন এর টাকা উত্তোলন।
  • ৪। ইউপেনশন আবেদন করতে কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন?
  • ৫। সর্বজনীন পেনশন স্কিনে যারা সুবিধা পাবেন।
  • ৬। সর্বজনীন স্কিম মোট কয়টি এবং কি কি তা বিস্তারিত।
  • ৭। সর্বজনীন পেনশন কত টাকা রাখলে কত টাকা পাবেন।
  • ৮। সর্বজনীন পেনশন স্কিম কিভাবে কাজ করে?
  • ৯। সর্বশেষ সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন ২০২৩ সম্পর্কে জানুন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধা

বিগত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বজনীন পেনশন স্কিম কর্মশিক্ষিত উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচিতে দেশের সকল নাগরিক অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি তারা এই সর্বজনীন স্কিমে আবেদন করতে পারবেন।

এই স্কিম দেশে বিদেশে বসবাসরত সকল নাগরিক অর্থাৎ বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয় পত্র থাকলেই সর্বজনীন পেনশন সুবিধা পাবেন।

সর্বজনীন পেনশন সিকিউরিটি সম্পর্কে মিঃ মোস্তফা বলেন, এই স্কিম নিয়ে সংখ্যা থাকার কোন কারণ নেই। কারণ সরকার নিজে এটার গ্যারান্টি দিচ্ছে। প্রত্যেক পেনশনারকে ইউনিক নাম্বার দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে সে লগইন করে তার বিস্তারিত দেখতে পারবে। একাউন্টে কত পরিমান টাকা আছে তা দেখতে পারবে।

একজন পেনশনার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে কোন ব্যক্তি পেনশন সুবিধা ভোগ করার আগে মারা গেলে মৃত ব্যক্তির পেনশন সুবিধা ৭৫ বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে। অর্থাৎ তার টাকা নমিনি ব্যক্তি তুলতে পারবে।

আবার সর্বজনীন পেনশন এর আয়তাভুক্ত ব্যক্তি দশ বছর চাঁদা দেবার আগেই মারা গেলে তার জমাকৃত অর্থ মুনাফা সহ তার নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে।

এছাড়া আপনি চাইলে আপনার জমা কি তো অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন এবং আপনার জমাকৃত অর্থ থেকে সর্বোচ্চ 50% অর্থ ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন।

আপনার জমাকৃত প্রতি মাসের চাঁদা সরকারি খাতে বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে এবং আপনার অর্থ কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হবে। আপনার মাসিক পেনশন বাবদ প্রাপ্ত অর্থ হবে আয়কর মুক্ত তাতে কোন প্রকার কর দিতে হবে না।

সর্বজনীন পেনশন আবেদন করতে যা যা প্রয়োজন

বাংলাদেশের নাগরিক জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সকল শ্রেণী পেশার মানুষ এই স্কিমে অংশ নিতে পারবে। সর্বজনীন স্কিমে অংশ নিতে হলে অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র থাকতে হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য, যাদের জাতীয় পরিচয় পত্র নেই তারা চাইলে পাসপোর্ট দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। কিন্তু তাকে পরবর্তীতে দ্রুত সময়ে জাতীয় পরিচয় পত্র সংগ্রহ করে কপি জমা দিতে হবে।

যদি কোন ব্যক্তি স্কিম চালু করেন তাহলে সেই ব্যক্তির বয়স 60 বছর হলে তিনি সরকার থেকে পেনশন পেতে শুরু করবেন। তবে কেউ যদি পঞ্চান্ন বছর বয়সে স্কিমে অংশে নেন তাহলে সে ৬৫ বছর বয়স থেকে পেনশন সুবিধা পেতে শুরু করবেন।

সর্বজনীন পেনশন কত টাকা রাখলে কত টাকা পাবেন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সর্বজনীন প্যাকেজের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এছাড়া সরকার মোট ছয়টি স্কিমের কথা ঘোষণা করেছে। বর্তমানে চারটি স্কিম চালু রয়েছে। সর্বজনীন পেনশন স্কিম গুলো হল প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা। নিম্নে এই স্কিমগুলোর বিস্তারিত দেখুন

সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধা

সর্বজনীন পেনশন প্রবাস স্কিম

এই স্কিমটি শুধু যারা বিদেশে অবস্থান করছে বা বিদেশে চাকরি করতেছে তাদের জন্য। তবে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং জাতীয় পরিচয় পত্র থাকতে হবে। প্রবাসীদের জন্য মাসিক চাঁদার হার ধরা হয়েছে 5000, ৭৫০০, এবং ১০০০০ টাকা করে। স্কিমে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি বিদেশে থাকা অবস্থায় অনলাইনে পেমেন্ট করতে পারবেন এবং বাড়িতে আসলেও এখান থেকেও পেমেন্ট করতে পারবেন। প্রবাসী স্কিমের চার্ট নিম্নে দেওয়া হল।

সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধা

প্রগতি সর্বজনীন পেনশন স্কিম

প্রগতি স্কিমটি হলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের জন্য। অর্থাৎ যারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তা তারা এই স্কিমে আবেদন করতে পারবেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্ম মত ব্যক্তি তিন ভাবে স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। ব্যক্তি চাইলে ২০০০ টাকা ৩০০০ টাকা ও ৫০০০ টাকা করে পেনশনের আবেদন করতে পারবেন। নিম্নে প্রগতি সর্বজনীন পেনশন স্কীম এর চার্ট দেওয়া হল।

সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধা

সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুরক্ষা

এটি মূলত স্বনির্ভর ব্যক্তির জন্য। যারা কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন না কিন্তু নিজে উপার্জন করতে পারেন। শুধুমাত্র তারাই এই সুরক্ষায় আবেদন করতে পারবেন। আলতায় পড়েন ফ্রিল্যান্সার, কৃষক, শ্রমিক ইত্যাদি পেশার লোকজন। এই ব্যাক্তি মাসে ৩ হাজার, ৪ হাজার অথবা ৫000 টাকা করে স্কিম চালু করতে পারেন। নিম্নে থেকে সুরক্ষা স্কিমের চার্ট দেখুন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধা

সর্বজনীন পেনশন সমতা

এই স্কিমের ব্যক্তি প্রতি মাসে ৫০০ টাকা জমা রাখবেন এবং বাকি ৫০০ টাকা দিবে সরকার। অর্থাৎ এই স্কিমে চাঁদের হার একটি ১ হাজার টাকা। দেশের স্বল্প আয়ের লোকজন এই স্কিমে আবেদন করতে পারবেন। নিম্নে সর্বজনীন পেনশন সমতা এর চার্ট দেখুন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধা

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ইউজার রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদনের নিয়ম

সর্বজনীন পেনশন আবেদন করতে হলে আপনাকে কিছু নিয়ম ফলো করতে হবে। তো চলুন নিম্নে থেকে সর্বজনীন পেনশন আবেদন করার নিয়ম স্টেপ বাই স্টেপ দেখে আবেদন করুন।

১। ১ম এ আপনাকে মোবাইল অথবা কম্পিউটার থেকে যেকোন ব্রাউজার থেকে https://www.upension.gov.bd/ সাইটে প্রবেশ করতে হবে।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ইউজার রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদনের নিয়ম

২। এরপর পেনশনার রেজিষ্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করে নিতে হবে।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ইউজার রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদনের নিয়ম

৩। এখানে আপনাকে সর্বজনীন রেজিস্ট্রেশন ফরম পুরনএর কিছু শর্তাবলি দিবে। যা পড়ে সম্মতি প্রকাশ করুন বাটনে চাপুন।

৪। এখন আপনাকে প্রথমে প্যাকেজ সিলেক্ট করতে হবে। এরপর আপনার ১০ বা ১৩ সংখ্যার আইডি নাম্বার সঠিকভাবে লিখুন। জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী জন্ম তারিখ বসান। মোবাইল নাম্বার টাইপ করুন। এবং সর্বশেষ ক্যাপচা পুরন করুন । এরপর পরবর্তী পেইজে ক্লিক করলে উক্ত নাম্বারে ওটিপি পাঠাবে।

৫। ওটিপি দিন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধা

৬। এখানে আপনার মূল কাজ এখানে আপনাকে ব্যাক্তিগত তথ্য পূরন করতে হবে। পরবর্তী বাটনে ক্লিক করে। আবার স্কিম তথ্য দিতে হবে। এবং তাপর ব্যাংক তথ্য দিতে হবে। তারপর নমিনি তথ্য দিতে হবে। এবং সর্বশেষ আপনি সম্পূর্ন ফরম দেখতে পারবেন।

সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধাসর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধা

আরও পড়ুন

সর্বজনীন পেনশন আইন ও বিধিমালা

সর্বজনীন পেনশন আইন, ২০২৩

সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিধিমালা, ২০২৩

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সদস্যের চাকরি বিধিমালা, ২০২৩

সম্মানিত পাঠক উপরে আমরা সর্বজনীন পেনশন স্কিম সুবিধা এবং সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করবেন যেভাবে? অনলাইনে সর্বজনীন পেনশন আবেদন করার নিয়ম। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে পেনশনার রেজিস্ট্রেশন, login, payment এবং সর্বজনীন পেনশন এর টাকা উত্তোলন। ইউপেনশন আবেদন করতে কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন? সর্বজনীন পেনশন স্কিনে যারা সুবিধা পাবেন। সর্বজনীন স্কিম মোট কয়টি এবং কি কি তা বিস্তারিত। সর্বজনীন পেনশন কত টাকা রাখলে কত টাকা পাবেন। সর্বজনীন পেনশন স্কিম কিভাবে কাজ করে? সর্বশেষ সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন ২০২৩ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আসা করি আজকের আলোচনা বুজতে পারছেন। তাছাড়া উপরের আলোচনা থেকে বুজতে না পারলে নিম্নে থেকে ভিডিও দেখে সমাধান পেতে পারেন। চলুন তাহলে ভিডিও দেখে নেয়া যাক।

Universal Pension User Registration | ইউজার রেজিস্ট্রেশন

Universal Pension User Registration | ইউজার রেজিস্ট্রেশন

আরও পড়ুন

পেনশনার আবেদন ফরম

সর্বজনীন পেনশন সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন দেখুন

Check Also

নগদ একাউন্ট দেখার নিয়ম ২০২৩

নগদ একাউন্ট দেখার নিয়ম ২০২৩

নগদ একাউন্ট দেখার নিয়মঃ নগদ অ্যাপ থেকে নগদ একাউন্ট দেখার, পরিচালনা করার নিয়ম -নগদ অ্যাপ …

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন A to Z

আজকে আমরা নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে কি কি লাগে, নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম …

Nu Degree 3rd year exam routine 2023

Nu Degree 3rd year exam routine 2023 | ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের রুটিন ২০২৩

Nu Degree 3rd year exam routine 2023 | ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের রুটিন ২০২৩ঃ এখানে ডিগ্রি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *